জেল হেফাজতের আশঙ্কা! আগাম জামিনের আবেদন কুণাল কামরার
নিজস্ব প্রতিনিধি, মহারাষ্ট্র – সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিণ্ডেকে নিয়ে মসকরা করায় স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান কুণাল কামরাকে দেশছাড়ার হুমকি দিয়েছিল শিণ্ডে ভক্তরা। শুক্রবার সকালে জেল হেফাজতের আশঙ্কা করে আগাম জামিন চেয়ে মাদ্রাজ হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।
কুণালের আইনজীবী জানিয়েছেন, দেশের যে কোনও প্রান্তেই তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হোক না কেন আগাম জামিন যেন তিনি পান। আশঙ্কা করা হচ্ছে, মুম্বই থেকে ফিরলেই গ্রেফতার করা হতে পারে তাঁকে। প্রধান বিচারপতির এজলাসে জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আর্জিও জানান কুণাল। এদিকে তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, ইতিমধ্যেই ৫০০ টির বেশি প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন কুণাল।
সম্প্রতি নতুন কমেডি শো ‘নয়া ভারত’-এ একটি ব্যঙ্গাত্মক গানের মাধ্যমে শিন্ডেকে লক্ষ্য করেছিলেন কুণাল কামরা। এই গানে তিনি ২০২২ সালে শিবসেনা -র বিভাজন এবং শিণ্ডের বিদ্রোহের কথা উল্লেখ করে ‘গদ্দার’ বলেছিলেন তিনি। এই মন্তব্য মোটেও ভালোভাবে নেননি একনাথ শিণ্ডের ভক্তরা। এর প্রতিবাদে রবিবার রাতে মুম্বাইয়ের খার এলাকায় হ্যাবিট্যাট স্টুডিওতে ভাঙচুর করা হয়, যেখানে এই শোটি চিত্রায়িত হয়েছিল।
শিণ্ডে ভক্তদের তরফে স্টুডিওতে ভাঙচুরের ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় বিবৃতি দিয়ে কুণাল বলেন, “যেখানে এই শো করা হয়েছিল তা শুধুমাত্র একটি মঞ্চ। আমার কৌতুকের জন্য সেই মঞ্চ দায়ী নয়। সেখানে দাঁড়িয়ে আমি কৌতুক করি বা রাজনৈতিক ভাষণ দেই মঞ্চ তাতে বাঁধা দিতে পারে না। ফলে সেখানে হামলা মুর্খামি। বাটার চিকেন পছন্দ না হলে টমেটোর লরিতে হামলা চালানো কোনও কাজের কথা নয়।“
তিনি আরও বলেন, “কৌতুক শিল্পীদের বাকস্বাধীনতার ধনী ও ক্ষমতাবানদের প্রশংসার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা ঠিক নয়। একজন প্রভাবশালী জনগণের ক্ষতি করে অথচ সামান্য কৌতুক সহ্য করতে পারে না। যদিও তাঁর অক্ষমতা আমার অধিকারকে কেড়ে নিতে পারে না। যতদুর জানি এই ধরনের কৌতুক আইন বিরোধী নয়।“ এই ঘটনায় ক্ষমা চাওয়ার দাবি পুরোপুরি খারিজ করে দিয়ে কুণাল বলেন, “ক্ষমা চাওয়ার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। কারও ভয়ে খাটের নিচে লুকিয়ে পড়ার মতো মানুষ আমি নই।“
এরপর আবার বুধবার সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন প্লাটফর্মে নতুন ভিডিও আপলোড করেছেন কুণাল কামরা। যেখানে ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’র ‘হাওয়া হাওয়াই’ গানের প্যারোডি গাইতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। এই গানে গেরুয়া রাজনীতিকে বিদ্রুপ করেছেন তিনি। অভিযোগ, এই গানে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণকে নিশানা করেছেন কুণাল।