বাগুইহাটি কালীমন্দিরে চুরির কিনারা, ২২ দিন পর গ্রেফতার মূল অভিযুক্ত
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাগুইহাটি - অবশেষে ২২ দিনের প্রতীক্ষার পর চাউল পট্টি কালী মন্দিরের চুরির কিনারা করল পুলিশ। ২৫০টিরও বেশি সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল পুলিশ। পুলিশের এই সাফল্যে খুশি বাজার কমিটি থেকে এলাকাবাসী।
সূত্রের খবর, গত ২৪শে ফেব্রুয়ারি ভোররাতে বাগুইহাটির চাউল পট্টিতে ঘটে এক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা। মন্দিরের তালা ভেঙে ভোররাতে মন্দিরের সোনার গয়না, টাকা ও পূজোর বাসনপত্র চুরি করে পালায় দুষ্কৃতীরা। ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করা হয় বাগুইহাটি থানায়। ঘটনার তদন্তে নেমে বাগুইহাটি থানার পুলিশ প্রায় ২৫০টিরও বেশি সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে। অবশেষে বুধবার প্রায় ২২ দিন পর অভিযুক্ত গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। ধৃতের নাম রাজেশ দে। সে চাকদহ থানা এলাকার রবীন্দ্রনগরের বাসিন্দা। জানা যায়, রাজেশের নামে অনেক পুলিশ কেস আছে। এর আগেও ২০১৪ সালে একই মন্দিরের চুরির ঘটনায় গ্রেফতার করা হয় তাকে। এছাড়াও, কাপড় বিক্রির আড়ালে বিভিন্ন জায়গায় চুরি করে সে। গয়না গুলি চুরি করার পর যার কাছে সে বিক্রি করেছিল রাজেশের সঙ্গে তাকেও গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশের এই সাফল্যে বাজার কমিটির সভাপতি বাবুলাল রাজবংশী পুলিশ আধিকারিকদের সংবর্ধনা জানান।
ঘটনা প্রসঙ্গ ডি সি পি এয়ারপোর্ট ঐশ্বর্য্য সাগর জানিয়েছেন, ' ২৩শে ফেব্রুয়ারি রাত ২টো নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তদন্ত শুরু করা হয়। পুরোনো বাজার, মন্দির, ও এলাকার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার পর জানা যায়, চুরি করে সে দমদম রেলস্টেশনে যায় এবং সেখান থেকে ৩:৩০ নাগাদ কৃষ্ণনগর লোকালে উঠে। তারপর প্রতিটি স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ দেখা হয়। মদনপুর স্টেশনে তাকে নামতে দেখা যায়। বাগুইহাটি থানার পক্ষ থেকে রানাঘাট পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। অবশেষে চাকদহ পুলিশের উদ্যেগে তাকে গ্রেফতার করা হয়। '
পুলিশ আধিকারিক আরও বলেন, ' গয়নাগুলো চুরি করে যার কাছে বিক্রি করেছিল তাকেও পুলিশ গ্রেফতার করেছে। সবকটা গয়নাই উদ্ধার করা গেছে। ২০১২ সাল থেকে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অনেক পুলিশ কেস আছে প্রতিবারই জামিনে ছাড়া পেয়ে যায়। এই ঘটনায় তদন্তকারী দল খুবই ভালোভাবে কাজ করেছে। উদ্ধার হওয়া সমস্ত গয়না মন্দির কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হবে। '