রায়গঞ্জে সম্পত্তির লোভে কাকাকে খুনের অভিযোগ ভাইপোর বিরুদ্ধে, অভিযুক্ত পলাতক
নিজস্ব প্রতিনিধি, উত্তর দিনাজপুর - রায়গঞ্জে সম্পত্তির লোভে এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সামনে আসছে। সম্পত্তির লোভে কাকাকে চলন্ত ট্রেনের সামনে ধাক্কা দিয়ে ফেলে হত্যা করার অভিযোগ ভাইপোর বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে পলাতক অভিযুক্ত। পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সূত্রের খবর, দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তির জন্য বিবাদ চলছিল রায়গঞ্জের কাঞ্চনপল্লীর বাসিন্দা মদন সাহা (৫৪) ও তার ভাইপো প্রসেনজিৎ সাহার মধ্যে। প্রসেনজিৎ সাহা পেশায় একজন প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক। প্রসেনজিৎ সাহা দীর্ঘদিন ধরে মদনবাবু ও তার পরিবারের ওপর নানা রকমের অত্যাচার চালাতো। পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে মদনবাবুকে তার ভাইপো ডেকে নিয়ে যায়। তারপর থেকেই তিনি নিখোঁজ। পরিবারের পক্ষ থেকে রাতেই থানায় মিসিং ডায়েরি করা হয়। পরে গভীর রাতে রেললাইনে তার দ্বিখণ্ডিত দেহ পাওয়া যায়। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রসেনজিৎ সাহার বিরুদ্ধে তার কাকাকে খুন করার অভিযোগ উঠছে। রায়গঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। যদিও ঘটনায় অভিযুক্ত পলাতক।
ঘটনা প্রসঙ্গ, নিহতের মেয়ে সংঘমিত্রা সাহার অভিযোগ, প্রায় প্রতিদিনই মদ্যপ অবস্থায় বাড়িতে এসে হুমকি দিত। নানা দাবি থাকতো ওর আমাদের কাছে। পুকুরের ভাগ দিতে হবে এছাড়াও আরও অন্য বিষয়ে প্রায় এসে অশান্তি করতো। গত সপ্তাহের সোমবারও বাড়িতে ভাঙচুর করে। গতকাল রাতে বাবাকে ডেকে নিয়ে যায়। আমরা চাই ওর ফাঁসি হোক।
নিহতের বোন বাসন্তী রানী দাসের অভিযোগ, প্রসেনজিৎ গতকাল রাতে ৮:৩০ টা নাগাদ আমার দাদাকে ডেকে নিয়ে যায়। তারপর লোকাল ট্রেনের সামনে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। দিনের পর দিন আমাদের পরিবারে অত্যাচার চালাতো। প্রসেনজিৎের নামে থানায় ক্রিমিনাল কেস চলছে, জামিনে ছাড়া পেয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আজ সকালে ও নিজেই আমাদের ফোন করে জানায়। ওর কঠিন সাজা হোক এটাই চাই।
যদিও এই প্রসঙ্গে রায়গঞ্জ পৌরসভার উপ পৌরপ্রশাসক অরিন্দম সরকার জানিয়েছেন, ' খুবই মর্মান্তিক ঘটনা। দীর্ঘদিন ধরে আমরা মদনবাবুকে দেখছি, খুবই ভালো মানুষ ছিলেন। নিজের ছেলের মতন ভালবাসতেন ওনার ভাইপোকে। পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ চলছিল, ওনার ভাইপো জোর করে জমিতে জবরদখল করতে চাইছিল। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে, দুদিক থেকেই বিষয়টি ভাবার। খুন বা আত্মহত্যা যাই হয়ে থাকুক, আমরা চাই দোষীর যেন চরম থেকে চরমতর সাজা হয়। পুলিশের কাছে আবেদন যত দ্রুত সম্ভব দোষীকে যেন গ্রেফতার করে তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়। '