সোনামুখীতে স্কুলের রজতজয়ন্তী উৎসবে রাজনৈতিক উত্তেজনা, বিজেপি বিধায়ককে উপেক্ষা তৃণমূলের
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া - শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মঞ্চেও রাজনৈতিক ছায়া! সোনামুখীর ধুলাই গার্লস হাইস্কুলের রজত জয়ন্তী অনুষ্ঠানে দেখা গেলো তেমনই ছবি। বুধবার আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে যখন বিজেপি বিধায়ক প্রবেশ করেন তখনই একে একে মঞ্চ ত্যাগ করেন তৃণমূলের নেতারা। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার এই বহিঃপ্রকাশকে কেন্দ্র করে চর্চা তুঙ্গে।
সূত্রের খবর, বুধবার ধুলাই গার্লস হাইস্কুলের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ আমন্ত্রিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন বাঁকুড়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি অনুসূয়া রায়, বাঁকুড়া ডিপিএসসি চেয়ারম্যান শ্যামল সাঁতরা, বিষ্ণুপুরের বিধায়ক তন্ময় ঘোষ, সোনামুখী পুরসভার চেয়ারম্যান সন্তোষ মুখার্জি সহ একাধিক তৃণমূল নেতা। কিন্তু অনুষ্ঠানের মাঝেই হঠাৎ পরিস্থিতি অন্য দিকে মোড় নেয়। বিজেপি বিধায়ক দিবাকর ঘরামি মঞ্চে প্রবেশ করা মাত্রই একে একে উঠে যেতে থাকেন তৃণমূল নেতারা। এমনকি, কুশল বিনিময়ের জন্য এগিয়ে গেলে দিবাকর ঘরামিকে উপেক্ষা করেন শ্যামল সাঁতরা। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সোনামুখীতে তৃণমূলের শ্যামল সাঁতরাকে পরাজিত করেই বিধায়ক হয়েছিলেন দিবাকর ঘরামি।
এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের সোনামুখী পুরসভার চেয়ারম্যান সন্তোষ মুখার্জি জানিয়েছেন, ' ধুলাই হাই স্কুলের ২৫ বছর পূর্তির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমাদের সমস্ত তৃণমূল কর্মীদের আমন্ত্রণ ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেখানে সোনামুখীর বিধায়ক দিবাকর ঘরামী বিনা আমন্ত্রণে অনাহুতোর মতন অনুষ্ঠানটিকে পণ্ড করার জন্য মঞ্চে উঠে আসেন। স্বাভাবিকভাবেই একজন সাম্প্রদায়িক ও দাঙ্গাবাজ দলের প্রতিনিধির সঙ্গে তৃণমূলের নেতারা মঞ্চ ভাগ করে না। কারণ আমরা ধর্মের গোঁড়ামি নিয়ে রাজনৈতিক সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতি করিনা। তাই আমরা সমস্ত তৃণমূল কর্মী ও প্রশাসনিক স্তরের কর্মী যারা মঞ্চে উপস্থিতি ছিলেন সেখান থেকে প্রস্থান করি। আমাদের কাছে যে আমন্ত্রণ পত্র এসে পৌঁছেছিল তাতে বিধায়কের নাম ছিল না তাই গেছিলাম। '
চেয়ারম্যান সাহেবের কথার পাল্টা জবাবে সোনামুখীর বিজেপি বিধায়ক দিবাকর ঘরামি বলেন, ' গতকাল সোনামুখী বিদ্যালয়ের রজত জয়ন্তী অনুষ্ঠানে স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ করেছিল। সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়েই আমি গেছিলাম। আমি ঢুকেই দেখি মঞ্চে তৃণমূলের নেতৃত্বরা মঞ্চে বসে আছেন। কিন্তু আমি মঞ্চের কাছাকাছি যেতেই দেখি উনারা মঞ্চ থেকে নেমে যাচ্ছেন তাও আমি সামনে গিয়ে সৌজন্য বিনিময় করি কিন্তু পরে বুঝতে পারলাম যে ওনারা আমার যাওয়ার কারণেই মঞ্চ থেকে নেমে যায়। এলাকার মানুষেরা সবটাই দেখেছেন আজকে তৃণমূলের মানুষদের এত ছোট মানসিকতা হওয়ার কারণেই কোনো উন্নয়ন করতে পারেনি। '
তিনি আরও বলেন, ' আপনারা তো কোথায় স্কুল আছে বা একটা স্কুল কিভাবে চলছে সেই খোঁজ নেন না আপনার আমন্ত্রণ পেলে চলে যান কিন্তু স্কুলে শৌচালয় ঠিক আছে কিনা সেটা একবারও দেখতে যান না বা খোঁজও রাখেন না স্কুল পরিচালনার একটা কমিটি আছে যেখানে তৃণমূলের সক্রিয় নেতাদের নাম আছে সেই নেতাদের সম্মতি নিয়ে আমাকে আমন্ত্রণ করা হয়েছিল। এনারা তো ভোটে জেতে আসেননি তার জন্যই এরম ভাবে একজন নেতাকে অপমান করতে পেরেছেন। সোনামুখীর মানুষেরা এনাদের চায়না, আর ২০২৬ সালে সেটা জনগণ এনাদের বুঝিয়ে দেবে। '